Skip to content
বঙ্কিম রচনাবলীতে স্বাগতম!
এটি একটি সম্পূর্ণ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

আজ শনিবার,
২০শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা জুলাই, ২০২০ ইং, ১৩ই জিলক্বদ, ১৪৪১ হিজরী, বর্ষাকাল,
এখন বাংলাদেশ মান সময় সকাল ৮:০৯ মিনিট

বঙ্কিম রচনাবলীতে ৩৩ টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে।

একনজরে বঙ্কিম রচনাবলী

মোট গ্রন্থ
৩৩ টি
উপন্যাস
১৫ টি
প্রবন্ধগ্রন্থ
৫ টি
হিন্দধর্মবিষয়ক
৩ টি
রম্যরচনা
৩ টি
বিবিধ
৮ টি
নির্মাণ
পরিচালনায়

প্রাককথন

বাংলা সাহিত্যের নবজাগরণের অন্যতম পথিকৃৎ-কর্মী বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। বঙ্কিমচন্দ্রের জন্ম ১৮৩৮ সালের ২৬ শে জুন, অধুনা চব্বিশ পরগণা জেলার অন্তর্গত নৈহাটির কাঁঠালপাড়া গ্রামে। বাবা যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ছিলেন মেদিনীপুরের কলেক্টর। নিয়মমাফিক পড়াশোনা শুরু বাবার কর্মস্থল মেদিনীপুর জেলার এক ইংরেজি স্কুলে। পরে কাঁঠালপাড়ায় ফিরে হুগলি কলেজে। ১৮৫৬ সালে বঙ্কিমচন্দ্র আইন পড়বার জন্য প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি হন এবং ১৮৫৭তে সেখান থেকে প্রথম বিভাগে এন্ট্রান্স পরীক্ষা পাশ করেন। ১৮৫৮ সালে সদ্য প্রতিষ্ঠিত কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বি.এ.পরীক্ষায় বঙ্কিমচন্দ্র দ্বিতীয় বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করেন। আইন পড়া শেষ হওয়ার আগেই যশোরের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কলেক্টরের চাকরি পান।
বঙ্কিমী সাহিত্যের বিশেষত্ব এককথায় তার রসায়নে। বৌদ্ধিক রসের সঙ্গে সাহিত্য রসের এমন মিশেল পরবর্তী বাংলা সাহিত্যেও বিরল। না বললেও বোঝা যায়; সমসাময়িক জাতীয়তাবাদের ঝোড়ো হাওয়ায় বাংলা-বাঙালির সাংস্কৃতিক ইতিহাসের নির্মাণকল্পে বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর সাহিত্য-রচনার সমস্ত শক্তি ঢেলে দিলেও, তাঁর মননসঞ্জাত রসই বাংলা সাহিত্যকে প্রথম আধুনিকতার আলো দেখিয়েছিল। এককথায় বলতে গেলে, একদিকে উপন্যাসের কাব্য অন্যদিকে প্রবন্ধ তথা গদ্যের বিজ্ঞান, তার সঙ্গে কিছু গান, কবিতা ও ভারতবর্ষ – সব মিলিয়েই বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
নতুন বিশ্বে নতুন প্রথায় নতুন রুচির পরিসরে বাংলা সাহিত্য সারা বিশ্বের কাছে পৌঁছে দেওয়া একটা নাগরিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। শুধু তাই নয়, প্রাচীন সাহিত্য পাঠের মধ্যে দিয়ে মানুষেরও সুযোগ ঘটে কালানুক্রমিক রুচিবোধ ও সংস্কৃতির সম্পর্ক যাচাই করে দেখার। সেই সঙ্গে সমাজ, সংস্কৃতি, মানবিক বোধ, রাজনীতি, সাহিত্য, সমস্ত কিছু নিয়ে মহান চিন্তাবিদ, রচয়িতাদের বক্তব্য সম্পর্কে মানুষের বর্তমান সংস্কারের আদান-প্রদান ঘটাও জরুরি। আর সব কিছু বাদ রাখলেও কালজয়ী, কলোত্তীর্ণ সাহিত্যের স্বাদ যুগে যুগে রসিক পাঠকের কাছে তো সব সময়ই আদরের।

নির্বাচিত রচনা

  • দশম পরিচ্ছেদ
    মন্ত্রণার পর উদ্যোগযে দিবস অভিরাম স্বামী বিমলার প্রতি ক্রুদ্ধ হইয়া তাহাকে গৃহবহিষ্কৃত করিয়া দেন, তাহার পরদিন প্রদোষকালে বিমলা নিজ কক্ষে বসিয়া বেশভূষা করিতেছিলেন। পঞ্চত্রিংশৎ বর্ষীয়ার বেশভূষা? কেনই বা না করিবে? বয়সে কি যৌবন যায়? যৌবন যায় রূপে আর মনে; যার রূপ নাই, সে বিংশতি বয়সেও বৃদ্ধা; যার রূপ আছে, সে সকল বয়সেই যুবতী। যার মন রস নাই, সে চিরকাল প্রবীণ; যার রস আছে, সে চিরকাল নবীন। বিমলার আজও রূপে শরীর ঢলঢল করিতেছে, রসে মন টলটল করিতেছে। বয়সে আরও রসের পরিপাক; পাঠক মহাশয়ের যদি কিঞ্চিৎ বয়স হইয়া থাকে, তবে এ কথা অবশ্য স্বীকার করিবেন।
    কে বিমলার সে তাম্বুলরাগরক্ত ওষ্ঠাধর দেখিয়া বলিবে, এ যুবতী নয়? তাহার কজ্জলনিবিড় প্রশস্ত লোচনের চকিত কটাক্ষ দেখিয়া কে বলিবে যে, এ চতুর্বিংশতির পরপারে পড়িয়াছে? কি চক্ষু! সুদীর্ঘ; চঞ্চল; আবেশময়। কোন কোন প্রগলভক-যৌবনা কামিনীর চক্ষু দেখিবামাত্র মনোমধ্যে বোধ হয় যে, এই রমণী দর্পিতা; এ রমণী সুখলালসাপূর্ণা। বিমলার চক্ষু সেইরূপ। আমি নিশ্চিত পাঠক মহাশয়কে বলিতেছি, বিমলা যুবতী, স্থিরযৌবনা বলিলেও বলা যায়। তাঁহার সে চম্পকবর্ণ ত্বকের কোমলতা দেখিলে কে বলিবে যে, ষোড়শী তাঁহার অপেক্ষা কোমলা? যে একটি অতি ক্ষুদ্র গুচ্ছ অলককেশ কুঞ্চিত হইয়া কর্ণমূল হইতে অসাবধানে কপোলদেশে পড়িয়াছে, কে দেখিয়া বলিবে যে, যুবতীর কপোলে যুবতীর কেশ পড়ে নাই? পাঠক! মনশ্চক্ষু উন্মীলন কর; যেখানে বসিয়া দর্পণ সম্মুখে ...
Scroll Up