জীবনকথা

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

এই নিবন্ধটি মূল গ্রন্থের অংশ নয়!

প্রারম্ভেই বলে রাখা দরকার,‘কবিকথা’ নামে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন গ্রন্থ প্রকাশিত হয়নি, এই নামে তিনি কোন পাণ্ডুলিপিও তৈরি করেননি। প্রবন্ধগুলো লিখিত হয়েছিল তাঁর সম্পাদিত কয়েকটি গ্রন্থের ভূমিকা হিসেবে। বঙ্কিম রচনাবলীর সম্পাদকগণ এই ভূমিকাগুলোকে ‘সম্পাদিত গ্রন্থের ভূমিকা’ শিরোনামে রচনাবলীতে স্থান দিয়েছিলেন। যেহেতু, ভূমিকা হলেও লেখাগুলো মূলতঃ সাহিত্যিকদের জীবনী ও তাদের সাহিত্যকর্মের উপর রচিত হয়েছে, তাই আমরা ভূমিকাগুলোকে স্বতন্ত্রগ্রন্থ হিসাবে প্রকাশ করেছি। এই সঙ্কলনের নাম দিয়েছি ‘জীবনকথা’, এতে চার জন সাহিত্যিকের জীবনীর মধ্যে সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ব্যতীত আর তিনজনই ছিলেন কবি।

বহু সম্পাদিত গ্রন্থের ভূমিকা বঙ্কিমচন্দ্র লিখেছেন, এর মধ্যে কিছু ইংরেজি গ্রন্থও রয়েছে। এগুলোর মধ্যে কিছু ভূমিকা কেবল গ্রন্থের ভূমিকাই ছিল না, সেগুলোতে আলোচিত হয়েছে লেখকের জীবন ও কর্ম সম্পর্কে। ‘দীনবন্ধু মিত্রের গ্রন্থাবলী’র (সর্বপ্রথম প্রকাশকাল ১২৮৩ বঙ্গাব্দ) ভূমিকাটি বঙ্কিমচন্দ্র নিজেই স্বতন্ত্র পুস্তকাকারে ‘রায় দীনবন্ধু মিত্র বাহাদুরের জীবনী’ শিরোনামে ১২৮৩ বঙ্গাব্দে প্রকাশিত করেন। বঙ্কিমচন্দ্র এর স্বত্ব মিত্রজার পুত্রগণকে দান করেন। ১৮৮৬ খ্রীষ্টাব্দে (১২৯৩ বঙ্গাব্দে) প্রকাশিত দীনবন্ধুর বাল্যরচনা-সম্বলিত গ্রন্থাবলীতে ‘দীনবন্ধু মিত্রের কবিত্ব’ শীর্ষক একটি সমালোচনাও লিখে দেন। এই দুটি প্রবন্ধকে আমরা একত্র করে নাম দিয়েছি ‘রায় দীনবন্ধু মিত্র বাহাদুর’।

অনুরূপ, কবি ‘ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের কবিতাসংগ্রহ—ভূমিকা’ শীর্ষক প্রবন্ধে বঙ্কিমচন্দ্র কয়েকটি পরিচ্ছেদে কবির জীবনী, সাহিত্যকর্ম ও মূল্যায়ন আলোচনা করেছেন, এটিকে আমরা নাম দিয়েছে ‘ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত’।

এছাড়া ‘সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়’ ও ‘মাইকেল মধুসূদন দত্তে’র জীবনে বিষয়ে বঙ্কিমচন্দ্রের দুটি প্রবন্ধ রয়েছে। এই দুটি প্রবন্ধকেও আমরা ‘কবিকথা’ গ্রন্থের অন্তর্ভূক্ত করেছি।

সম্পাদকীয় হিসাবে লিখিত।