রাজমোহনের স্ত্রী

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম রচনা RAJMOHAN’S WIFE রচিত হয়েছিল ইংরেজি ভাষায়, সেটি বাংলায় পুনরায় লেখার কাজ শুরু করেছিলেন তিনি, কিন্তু সম্পূর্ণ করে যেতে পারেননি। সেই অসম্পূর্ণ রচনাই এই রাজমোহনের স্ত্রী।

১৯১৮ খ্রিষ্টাব্দে শ্রীশচীশচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ‘বারি-বাহিনী’ নামে ‘রাজমোহনের স্ত্রী’ উপন্যাসটি সমাপ্ত করে গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স থেকে প্রকাশ করেন। উপন্যাসটি তিনি বঙ্কিম সহধর্মিনীকে উৎসর্গ করেন। নিচে সেই উৎসর্গ ও ‘বারি-বাহিনী’ উপন্যাসের ভূমিকাটি যুক্ত করা হলো।

বারি-বাহিনীর উৎসর্গ

পরমারাধ্য খুল্লতাত-পত্নী

শ্রীচরণকমলেষু

খুড়ী-মা,

যে অংশ কাকার লিখিত, সে অংশ তোমার কণ্ঠে চিরফুল্ল পুষ্প-মাল্যরূপে বিরাজ করুক; আর যে অংশ আমার লিখিত, সে অংশ তোমার চরণে ভক্তিপুষ্পাঞ্জলিরূপে সার্থক হউক। মা, স্বামীর শেষ সম্পদ্, পুত্ত্রের হৃদয়ের পূজা গ্রহণ কর।

প্রণত সেবক

শচীশ।

বারি-বাহিনীর ভূমিকা

পরমারাধ্য বঙ্কিমচন্দ্র মৃত্যুর অনতিপূর্ব্বে– ১৩০০ বঙ্গাব্দে– এই আখ্যায়িকা লিখিতে আরম্ভ করেন; কিন্তু শেষ করিয়া যাইতে পারেন নাই। তাঁহার পুত্ত্র ও শিষ্য আজ তাহা ছাব্বিশ বৎসর পরে শেষ করিল। আমার এই ধৃষ্টতা অনেকের বিবেচনায় অমার্জ্জনীয় হইতে পারে; কিন্তু আমি এ প্রলোভন সংবর্ণ করিতে পারিলাম না। তা’ ছাড়া আর একটা কথা আছে; যাঁহার নিকট আমি সকল বিষয়ে ঋণী, তাঁহার চরণে এ ভাবে পুষ্পাঞ্জলি না দিয়ে থাকিতে পারিলাম না।

বঙ্কিমচন্দ্র তাঁহার সাধারণ ভাষা পরিত্যাগ পূর্ব্বক এক অভিনব ভাষায় এই পুস্তকখানি রচনায় প্রবৃত্ত হইয়াছিলেন। আমিও সাধ্যমত সেই ভাষার অনুসরণ করিয়াছি; তবে কৃতকার্য্য হইতে পারি নাই।

বঙ্কিমচন্দ্রের হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপির এক পৃষ্ঠা যথাযথ প্রতিলিপি করিয়া সন্নিবিষ্ট করিলাম। কালপ্রভাবে কাগজখানি ভগ্ন ও মসী মলিন হইয়া গিয়াছে। ইতি–

শ্রীশচীশচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়