দেবতত্ত্ব ও হিন্দুধর্ম্ম

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্মশতবর্ষে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ প্রকাশতি বঙ্কিম রচনাবলীর ‘বিবিধ’ খণ্ডে বলা হয়েছে—

“বঙ্কিমচন্দ্র ‘কৃষ্ণচরিত্রের’র ভূমিকায় দেবতত্ত্ব-বিষয়ক তাঁহার একটি প্রবন্ধ রচনার উল্লেখ করিয়াছেন। প্রবন্ধটি ধারাবাহিকভাবে ‘প্রচারে’র প্রথম দুই বৎসরের কয়েক সংখ্যায় প্রকাশিত হইয়াছিল; সম্পূর্ণ হয় নাই। বঙ্কিমচন্দ্র প্রবন্ধের কোনও নাম দেন নাই, বিভিন্ন অধ্যায় বিভিন্ন শিরোনামায় প্রকাশিত হয়েছিল। আমরা বিষয় দৃষ্টে এই প্রবন্ধের ‘হিন্দুধর্ম্ম ও দেবতত্ত্ব’ নামকরণ করিয়াছি।”

সাহিত্য সংসদ প্রকাশতি বঙ্কিম রচনাবলীর দ্বিতীয় খণ্ডের তৃতীয় ভাগে “দেবতত্ত্ব ও হিন্দুধর্ম্ম” সন্নিবেশিত হয়েছিল; তাতে উল্লেখ করা হয়েছে—

এখানি বঙ্কিমচন্দ্রের জীবিত কালে পুস্তকাকারে তো গ্রথিত হয়ই নাই, সাহিত্য-পরিষৎ-সংস্করণ প্রকাশের পূর্ব্বে ইহার অস্তিত্ব সম্বন্ধেও কেহ কোনরূপ আলোচনা করেন নাই। অথচ “কৃষ্ণচরিত্রে”র ‘প্রথমবারের বিজ্ঞাপনে’ দেবতত্ত্ববিষয়ক রচনাটির সুস্পষ্ট উল্লেখ আছে। ভিন্ন ভিন্ন শিরোনামে এই রচনাটি ‘প্রচারে’ প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষে ধারাক্রমে বঙ্কিমচন্দ্র প্রকাশিত করেন। ১৩৪৫ বঙ্গাব্দের ২৯শে শ্রাবণ শ্রীরামপুর মহাকুমা বঙ্কিমশতবার্ষিকী উৎসবের সভাপতির অভিভাষণে শ্রীযুক্ত সজনীকান্ত দাস সর্ব্বপ্রথম বঙ্কিমচন্দ্রের এই রচনাটির অস্তিত্বের কথা সাধারণের গোচরে আনেন। এই পুস্তকের নামকরণও তাঁহারই।