বিবিধ প্রবন্ধ

দ্বিতীয় ভাগ

পরিশিষ্ট পৃষ্ঠা: /

পরিশিষ্ট অংশটি মূলগ্রন্থের অংশ নয়, পর্ষদ্ সংস্করণে মুদ্রিত পরিশিষ্ট এখানে যুক্ত করা হলো।

‘বিবিধ প্রবন্ধ’ এবং ‘বিবিধ প্রবন্ধ— দ্বিতীয় ভাগ’-এর যথাক্রমে ১২৯৪ বঙ্গাব্দে (১৮৮৭ খ্রীষ্টাব্দে) ও ১৮৯২ খ্রীষ্টাব্দে মাত্র একটি করিয়া সংস্করণ হইয়াছিল, সুতরাং পাঠভেদ নাই। কিন্তু ১৮৮৭ সালে ‘বিবিধ প্রবন্ধ’ প্রকাশিত হইবার পূর্ব্বে বঙ্কিমচন্দ্র ‘বঙ্গদর্শনে’ প্রকাশিত তাঁহার প্রবন্ধগুলির কয়েকটি লইয়া ‘বিবিধ সমালোচন’ (১৮৭৬ খ্রীঃ) ও ‘প্রবন্ধ পুস্তক’ (১৮৭৯ খ্রীঃ) নামক দুইখানি পুস্তক কাঁটালপাড়া বঙ্গদর্শন যন্ত্রালয় হইতে প্রকাশ করেন। ‘বিবিধ সমালোচনে’ মোট নয়টি প্রবন্ধ ছিল, যথা—১। উত্তরচরিত, ২। গীতিকাব্য, ৩। প্রকৃত এবং অতিপ্রকৃত, ৪। বিদ্যাপতি ও জয়দেব, ৫। আর্য্যজাতির সূক্ষ্ম শিল্প, ৬। কৃষ্ণচরিত্র, ৭। দ্রৌপদী, ৮। সেকাল আর একাল এবং ৯। শকুন্তলা, মিরন্দা এবং দেস্‌দিমোনা। ইহার মধ্যে কৃষ্ণচরিত্র ব্যতীত সকলগুলিই ‘বিবিধ প্রবন্ধে’ স্থান পাইয়াছে, “সেকাল আর একাল” শীর্ষক প্রবন্ধের নাম বদলাইয়া ‘বিবিধ প্রবন্ধে’ “অনুকরণ” হইয়াছে। ‘প্রবন্ধ পুস্তকে’র প্রবন্ধসংখ্যা দশ, যথা— ১। বাঙ্গালির বাহুবল, ২। ভালবাসার অত্যাচার, ৩। জ্ঞান, ৪। সাংখ্যদর্শন, ৫। হিন্দুধর্ম্মের নৈসর্গিক মূল, ৬। ভারত কলঙ্ক, ৭। ভারতবর্ষের স্বাধীনতা এবং পরাধীনতা, ৮। প্রাচীন ভারতবর্ষের রাজনীতি, ৯। প্রাচীনা এবং নবীনা—তিন রকম এবং ১০। বুড়া বয়সের কথা। “বুড়া বয়সের কথা” পরবর্ত্তী কালে ‘কমলাকান্তে’ স্থান পাইয়াছে। “হিন্দুধর্ম্মের নৈসর্গিক মূল” ছাড়া বাকি সবগুলি প্রবন্ধই ‘বিবিধ প্রবন্ধে’ স্থান পাইয়াছে। “হিন্দুধর্ম্মের নৈসর্গিক মূল” সামান্য পরিবর্জ্জিত ও সংশোধিত হইয়া ‘বিবিধ প্রবন্ধ—দ্বিতীয় ভাগে’ “ত্রিদেব সম্বন্ধে বিজ্ঞানশাস্ত্র কি বলে” নামীয় প্রবন্ধরূপে স্থান পাইয়াছে। পরিত্যক্ত অংশ পরিশিষ্টে মুদ্রিত হইল। বঙ্কিমচন্দ্রের পুস্তকাকারে প্রকাশিত যাবতীয় গ্রন্থই আমরা পুনর্মুদ্রিত করিতেছি, সুতরাং ‘বিবিধ সমালোচনে’র ও ‘প্রবন্ধ পুস্তকে’র ভূমিকা দুইটি এবং “কৃষ্ণচরিত্র” প্রবন্ধ এই পরিশিষ্টে মুদ্রিত করিতেছি। “কৃষ্ণচরিত্র” সম্বন্ধে বঙ্কিমচন্দ্রের মত পরে আমূল পরিবর্ত্তিত হইয়াছিল, এবং বঙ্কিমচন্দ্র ঐ নামে একটি বৃহৎ গ্রন্থ রচনা ও প্রকাশ করিয়াছিলেন। ‘বিবিধ প্রবন্ধ—দ্বিতীয় ভাগে’র অন্যান্য প্রবন্ধ ‘বঙ্গদর্শন’, ‘প্রচার’ ইত্যাদি পত্রে প্রকাশিত বঙ্কিমচন্দ্রের কয়েকটি প্রবন্ধের প্রায় পুনর্মুদ্রণ মাত্র। “বাঙ্গালীর উৎপত্তি” প্রবন্ধের পঞ্চম পরিচ্ছেদের একটি প্রয়োজনীয় ফুটনোট সম্ভবতঃ ভ্রমক্রমে ‘বঙ্গদর্শন’ হইতে পুনর্মুদ্রিত হয় নাই, আমরা সেই ফুটনোটটিও এই পরিশিষ্টে সন্নিবিষ্ট করিলাম। পত্রিকা হইতে পুস্তকাকারে পুনর্মুদ্রণের সময় দুই একটি যে পরিবর্ত্তন ঘটিয়াছে, তাহা উল্লেখযোগ্য নহে। ‘বিবিধ সমালোচন’ ও ‘প্রবন্ধ পুস্তকে’ও এমন অনেক পুস্তক ও বিষয় সম্বন্ধে উল্লেখ ছিল, পরবর্ত্তী কালে বঙ্কিমচন্দ্র যাহা নিতান্ত অনাবশ্যক জ্ঞানে পরিত্যাগ করিয়াছিলেন। সে সকল অংশ পুনর্মুদ্রিত হইল না।

‘বিবিধ সমালোচনে’র বিজ্ঞাপন।

বঙ্গদর্শনে মৎপ্রণীত যে সকল গ্রন্থসমালোচনা প্রকাশিত হইয়াছিল, তন্মধ্যে কতকগুলি পরিত্যাগ করিয়াছি। যে কয়টি প্রবন্ধ পুনর্মুদ্রিত করিলাম, তাহারও কিয়দংশ স্থানে২ পরিত্যাগ করিয়াছি। আধুনিক গ্রন্থের দোষগুণ বিচার প্রায়ই পরিত্যাগ করা গিয়াছে। যে যে স্থানে সাহিত্যবিষয়ক মূলকথা বিচার আছে, সেই সকল অংশই পুনর্মুদ্রিত করা গিয়াছে।

শ্রীবঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

‘প্রবন্ধ পুস্তকে’র বিজ্ঞাপন।

এই গ্রন্থে যে কয়টি প্রবন্ধ সংগৃহীত হইল, তাহা সকলই বঙ্গদর্শনে প্রকাশিত হইয়াছিল। কোন কোন প্রবন্ধের স্থানে স্থানে কিছু কিছু পরিত্যাগ করা গিয়াছে। কখনও বা প্রবন্ধের নাম পরিবর্ত্তন করা গিয়াছে।

এই জাতীয় আরও কয়েকটি মৎপ্রণীত প্রবন্ধ বঙ্গদর্শনে প্রকাশিত হইয়াছিল। নানা কারণে সেগুলি এক্ষণে পুনর্মুদ্রাঙ্কনের অযোগ্য বিবেচনা করিলাম।

শ্রীবঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।