মুচিরাম গুড়ের জীবনচরিত

সূচিপত্র

ভূমিকা

পাতাটি মূলগ্রন্থের অংশ নয়। এটি পর্ষদ্ প্রকাশিত জন্মশতবার্ষিক সংস্করণের ভূমিকা।

১২৮৭ বঙ্গাব্দের আশ্বিন মাসে (১৮৮০ খ্রীষ্টাব্দের সেপ্টেম্বরে) ‘বঙ্গদর্শন’ (পৃষ্ঠা ২৪১-২৬৪) “মুচিরাম গুড়ের জীবনচরিত” প্রকাশিত হয়। ইহা “শ্রীদর্পনারায়ণ পূতিতুণ্ড প্রণীত” বলিয়া উল্লিখিত ছিল। ঐ সময়ে বঙ্কিমচন্দ্র হুগলীর ডেপুটি ম্যাজিস্‌ট্রেট ছিলেন; মানসম্ভ্রম এবং অর্থাগমের দিক্ দিয়া তখন তাঁহার জীবন খুবই সুখপ্রদ ছিল বলিতে হইবে, এখানেই তিনি বর্দ্ধমানের বিভাগীয় কমিশনারের অস্থায়ী পার্সন্যাল অ্যাসিস্টান্ট নিযুক্ত হন। ঠিক এই কালেই মুচিরাম-জাতীয় জীবেদের প্রতি তিনি কেন এরূপ বিষদৃষ্টি নিক্ষেপ করেন, তাহা বুঝা কঠিন। বঙ্কিমের এক জন জীবনীকার তাঁহার অ্যাসিস্টান্ট সেক্রেটারি পদলাভ ও পদচ্যুতির সহিত এই রচনাকে সম্পর্কিত করিয়াছেন, কিন্তু তাহা ঠিক নহে। ১২৯০ বঙ্গাব্দে ‘মুচিরাম গুড়ের জীবনচরিত’ পুস্তকাকারে প্রকাশিত হইবার পূর্ব্বেই যদিও তিনি সেক্রেটারি পদের গ্রহণ ও পরিত্যাগের বিরক্তিকর অবস্থার সহিত পরিচিত হইয়াছিলেন, ‘মুচিরাম’ রচিত হয় তাঁহার সেক্রেটারি হইবার অন্ততঃ এক বৎসর পূর্ব্বে। এই প্রসঙ্গে শ্রীযুক্ত অক্ষয়কুমার দত্তগুপ্ত তাঁহার ‘বঙ্কিমচন্দ্র’ (১৩২৭) পুস্তকের ২৭৪ পৃষ্ঠায় লিখিয়াছেন–

“…রাজপদে অনেক অযোগ্য ব্যক্তি সৌভাগ্যবলে অনুচিত সম্মান লাভ করে বটে এবং হয়ত যোগ্যতর অনেক ব্যক্তিও নানা ঘটনাচক্রে উপযুক্তরূপ সম্মান ও পদোন্নতি প্রাপ্ত হয়েন না, কিন্তু বঙ্কিমচন্দ্র নিজ জীবনে সরকারের নিকট হইতে কখনও অনাদর পান নাই। এমন অবস্থায় মুচিরামের সৃষ্টি কেন এ প্রশ্ন অনেকেরই মনে উঠিতে পারে। তিনি নিজ সার্ব্বিসে এবং হয়ত নিজ স্টেশনেই নিজের পার্শ্বে অনেক মুচিরাম, ঘটিরাম দেখিয়াছিলেন। তাহাদের ক্রিয়াকলাপ ও তাহাদের মধ্যে কাহারও কাহারও সরকারে প্রতিপত্তি নিশ্চয়ই তাঁহার মনে হাস্যরসের উদ্রেক করিয়াছিল। মুচিরাম বঙ্কিম পাঠকগণকে সেই হাস্যরসের ভাগ দিয়াছেন। অবশ্য ইহাতে হাস্যের সঙ্গে যে বিদ্রুপের বিষজ্বালা মিত্রিত আছে তাহা অস্বীকার করা যায় না।

বঙ্কিমচন্দ্রের জীবিতকালে ‘মুচিরাম গুড়ের জীবনচরিতে’র একটি মাত্র সংস্করণ “কলিকাতা, ৩৭ নং মেছুয়াবাজার ষ্ট্রীট– বীণাযন্ত্রে শ্রীশরচ্চন্দ্র দেব কর্ত্তৃক মুদ্রিত” ও শ্রীউমাচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় কর্ত্তৃক প্রকাশিত” হইয়াছিল। পৃষ্ঠা-সংখ্যা ছিল ৪৭।

‘বঙ্গদর্শন’ হইতে পুনর্মুদ্রণের সময়ে “নবম পরিচ্ছেদে”র শিরোনামটি (পৃ. ১৭) ভ্রমক্রমে বাদ পড়িয়াছিল।