মৃণালিনী

প্রথম খণ্ড

এই পাতা মূল গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত নয়!

মৃণালিনী উপন্যাস রচনার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট –বখতিয়ার খিলজির নবদ্বীপ আক্রমণ। ত্রয়োদশ শতকের প্রথম দশকে (১২০৩–১২০৪ খ্রিষ্টাব্দ) তুর্কি সেনাপতি বখতিয়ার খিলজি অতর্কিতে নবদ্বীপ আক্রমণ করেন। ইতিহাসে উল্লেখ আছে, তাঁর সঙ্গে ছিল মাত্র সপ্তদশ বা অষ্টাদশ অশ্বারোহী। রাজা লক্ষ্মণ সেন তখন আহারে ব্যস্ত ছিলেন। আক্রমণের পূর্বাভাস থাকা সত্ত্বেও কোনো প্রতিরোধের প্রস্তুতি ছিল না। ফলে রাজা সপরিবারে নৌকাযোগে বিক্রমপুরে পালিয়ে যান।

এই ঘটনাটি বঙ্কিমচন্দ্রকে গভীরভাবে পীড়া দিত। তিনি বিশ্বাস করতেন, বাঙালি জাতি কখনোই এমন কাপুরুষোচিত আত্মসমর্পণ করতে পারে না। তাই ইতিহাসের এই গ্লানিকে তিনি কল্পনার মাধ্যমে শোধন করতে চেয়েছিলেন। ‘মৃণালিনী’ সেই প্রচেষ্টারই ফল।

মৃণালিনী মূলতঃ ইতিহাস ও কল্পনার মিশ্রণ। উপন্যাসে বখতিয়ার খিলজির আক্রমণ ও গৌড় বিজয়—এই দুটি ঘটনা ঐতিহাসিক সত্য। কিন্তু— হেমচন্দ্র, মৃণালিনী, পশুপতি, মনোরমা, গিরিজায়া, দিগ্বিজয়—সব চরিত্রই সম্পূর্ণ কাল্পনিক। বঙ্কিমচন্দ্র ইতিহাসের কাঠামোর ওপর কল্পনার রঙ চড়িয়ে নির্মাণ করেছেন এক নতুন বীরত্বগাথা।

বঙ্কিমচন্দ্রের উদ্দেশ্য ছিল— বাঙালির আত্মসম্মান পুনরুদ্ধার; ইতিহাসের গ্লানি দূর করা; বীরত্বের আদর্শ স্থাপন; স্বদেশপ্রেম জাগ্রত করা; প্রেম ও রাজনীতির সমন্বয়ে নতুন সাহিত্যরীতি সৃষ্টি। ‘মৃণালিনী’ তাই কেবল একটি উপন্যাস নয়; এটি বাঙালির মানসিক পুনর্জাগরণের এক সাহিত্যিক দলিল।