‘মৃণালিনী’ বঙ্কিমচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস যেখানে স্বদেশপ্রেম সরাসরি উপজীব্য হয়েছে। পরবর্তী সময়ে ‘আনন্দমঠ’, ‘সীতারাম’, ‘দেবী চৌধুরাণী’—এসব উপন্যাসে তিনি এই চেতনা আরও বিস্তৃত করেন।
বঙ্কিমচন্দ্র ইতিহাসের গ্লানিকে মুছে দিয়ে দেখাতে চেয়েছেন— বাঙালি কাপুরুষ নয়; বাঙালি বীর; বাঙালি দেশপ্রেমিক–হেমচন্দ্র সেই বীরত্বের প্রতীক। তবে, বঙ্কিমচন্দ্র দেখিয়েছেন– বাঙালীর মধ্যে বীর যেমন রয়েছে, তেমনি বিশ্বাসঘাতকও রয়েছে।
পশুপতির চরিত্রের মাধ্যমে বঙ্কিমচন্দ্র দেখিয়েছেন— দেশের পতনের মূল কারণ অভ্যন্তরীণ বিশ্বাসঘাতকতা; শত্রুর শক্তি নয়, নিজের দুর্বলতাই বিপদের কারণ– এই বার্তা আজও সমান প্রাসঙ্গিক।