মৃণালিনী

তৃতীয় খণ্ড

এই পাতার ভূমিকা ও সূচিপত্র, কোনটিই মূল উপন্যাসের অংশ নয়!

হেমচন্দ্র চরিত্রটি বঙ্কিমচন্দ্রের আদর্শ বীরের প্রতিরূপ। তাঁর বৈশিষ্ট্য— দেশপ্রেম; বীরত্ব; ন্যায়বোধ; প্রেমে নিবেদিত; আবেগপ্রবণতা; ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা। হেমচন্দ্রের চরিত্রের সবচেয়ে বড় শক্তি—তিনি ভুল বুঝতে পারলে তা স্বীকার করেন। তাঁর অনুতাপ ও সংশোধন তাঁকে মানবিক করে তোলে।

মৃণালিনী বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শক্তিশালী নারীচরিত্র। তার বৈশিষ্ট্য— পবিত্রতা; আত্মসম্মান; প্রেমে দৃঢ়তা; সহনশীলতা; নৈতিকতা; সত্যের প্রতি অবিচল বিশ্বাস। তিনি কখনোই হেমচন্দ্রকে ভুল বোঝার চেষ্টা করেন না। তাঁর চরিত্রে বঙ্কিমচন্দ্র নারীর আদর্শ রূপায়ণ করেছেন।

মাধবাচার্য চরিত্রটি জটিল– তিনি দেশপ্রেমিক কিন্তু কৌশলী, কখনো কখনো নির্মম-লক্ষ্যপূরণে কঠোর। তিনি বিশ্বাস করেন—দেশের স্বার্থ ব্যক্তিগত প্রেমের চেয়ে বড়।

পশুপতি চরিত্রটি বঙ্কিমচন্দ্রের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। তার মধ্যে রয়েছে– ক্ষমতার লোভ; স্বার্থপরতা; বিশ্বাসঘাতকতা; নৈতিক অধঃপতন। পশুপতির মাধ্যমে বঙ্কিমচন্দ্র দেখিয়েছেন—দেশের পতনের মূল কারণ বাহ্যিক শত্রু নয়, অভ্যন্তরীণ বিশ্বাসঘাতক।

গিরিজায়া উপন্যাসের অন্যতম হৃদয়স্পর্শী চরিত্র। তিনি দরিদ্র, পথের গায়িকা, কিন্তু হৃদয়বান – মৃণালিনী ও হেমচন্দ্রের মিলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।