রাজসিংহ উপন্যাসটি আটটি খণ্ড ও একটি উপসংহার অংশে বিন্যস্ত। আটটি খণ্ডের নাম যথাক্রমে “চিত্রে চরণ”, “নন্দনে নরক”, “বিবাহে বিকল্প”, “রন্ধ্রে রন্ধ্রে”, “অগ্নির আয়োজন”, “অগ্নি উৎপাদন”, “অগ্নি জ্বলিল” ও “আগুনে কে কে পুড়িল?” এবং উপসংহার অংশটি “গ্রন্থকারের নিবেদন” নামে নামাঙ্কিত।
দ্বিতীয় খণ্ডে মোট সাতটি পরিচ্ছেদ আছে। এগুলির নাম যথাক্রমে “অদৃষ্টগণনা”, “জেব-উন্নিসা”, “ঐশ্বর্য-নরক”, “সংবাদ-বিক্রয়”, “উদিপুরী বেগম”, “যোধপুরী বেগম” ও “খোদা শাহজাদী গড়েন কেন?”। এই অংশে মোগল-হারেমের কাহিনি বর্ণিত হয়েছে। এই হারেম ঐশ্বর্য ও আড়ম্বরে নন্দনকাননের সমতুল্য। কিন্তু তার অন্তঃপুরে নরকের পাপাচার বিরাজ করছে।
মবারক নামে এক উচ্চপদস্থ মোগল রাজপুরুষকে দরিয়াবিবি জোর করে এক বিখ্যাত জ্যোতিষীর কাছে তাঁর হাত দেখাতে বাধ্য করলেন। পরে দরিয়াবিবি ঔরঙ্গজেবের কন্যা জেব-উন্নিসার কাছে আসতে গিয়ে দেখল, মবারক সেখানে ঢুকছে। তাই সে লুকিয়ে অপেক্ষা করতে লাগল। মবারক জেব-উন্নিসার প্রণয়প্রার্থী। কিন্তু শাহজাদি তাঁকে বিয়ে করতে রাজি হলেন না। কারণ বিয়ে করা তাঁর স্বভাববিরুদ্ধ। বাইরে বেরিয়ে মবারক দরিয়াবিবিকে দেখতে পেলেন। তারপর দরিয়াবিবি জেব-উন্নিসার কামরায় গিয়ে কথাবার্তায় শাহজাদীকে বলল যে, মবারকের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল। শুনে শাহজাদির রাগ হল। শেষে দরিয়াবিবি রূপনগরের চিত্রদলনের কাহিনিটি বলল জেব-উন্নিসাকে। শাহজাদি ঔরঙ্গজেবের খ্রিস্টান বেগম সুরাসক্ত উদিপুরীর কাছে রূপনগরের খবরটি দিয়ে বাদশাহের কানে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করলেন। ঔরঙ্গজেব চঞ্চলকুমারীকে বিবাহের প্রস্তাব পাঠালেন। সেই খবর শুনে বাদশাহের প্রধানা মহিষী হিন্দু যোধপুরী বেগম উদ্বিগ্ন হলেন। তিনি দেবী নামে এক দাসীকে রূপনগরে পাঠালেন চঞ্চলকুমারীকে এই কথা বলতে যে, তিনি যেন মোগল-হারেমে আসার আগেই মৃত্যুবরণ করেন। এদিকে মবারক জেব-উন্নিসার সঙ্গে কথাবার্তায় পুনরায় তাঁর ভালোবাসা প্রকাশ করেন এবং বিয়ে করার ইচ্ছে প্রকাশ করেন। কিন্তু জেব-উন্নিসা বললেন, “ভালবাসা গরীব-দুঃখীর দুঃখ। সে দুঃখ শাহজাদীরা স্বীকার করে না।”