রাজসিংহ উপন্যাসটি আটটি খণ্ড ও একটি উপসংহার অংশে বিন্যস্ত। আটটি খণ্ডের নাম যথাক্রমে “চিত্রে চরণ”, “নন্দনে নরক”, “বিবাহে বিকল্প”, “রন্ধ্রে রন্ধ্রে”, “অগ্নির আয়োজন”, “অগ্নি উৎপাদন”, “অগ্নি জ্বলিল” ও “আগুনে কে কে পুড়িল?” এবং উপসংহার অংশটি “গ্রন্থকারের নিবেদন” নামে নামাঙ্কিত।
সপ্তম খণ্ডের চারটি পরিচ্ছেদে রাজসিংহের সঙ্গে যুদ্ধে ঔরঙ্গজেবের বন্দী হওয়ার ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। পরিচ্ছেদগুলির নাম যথাক্রমে “দ্বিতীয় Xerxes—দ্বিতীয় Platoes”, “নয়নবহ্নিও বুঝি জ্বলিয়াছিল”, “বাদশাহ বহ্নিচক্রে” ও “অগ্নিচক্র বড় ভীষণ হইল”।
ঔরঙ্গজেব ও রাজসিংহ যুদ্ধের উদ্যোগ করতে লাগলেন। ঔরঙ্গজেব নির্মলকুমারীকে আদর করে ইম্লি বেগম বলে ডাকতেন। নির্মলকুমারীর বুদ্ধিমত্তা ও বাক্চাতুর্যে বাদশাহ এতই মুগ্ধ যে, তিনি তাকে বেগম পর্যন্ত করতে চাইলেন। কিন্তু নির্মলকুমারী তা প্রত্যাখ্যান করলেন। রাজসিংহ পার্বত্য পথে সেনা-সংস্থাপনের কৌশলে ঔরঙ্গজেবের বিপুল সেনাবাহিনী সহজেই বিপদে পড়ল। রাজসিংহ বেগমদের বন্দিনী করলেন। যে মবারককে মাণিকলাল প্রাণদান করেছিল, তার চেষ্টায় ঔরঙ্গজেব এক রন্ধমধ্যে কিছুসংখ্যক সেনা নিয়ে প্রবেশ করে অবরুদ্ধ হয়ে পড়লেন।