রাজসিংহ

ষষ্ঠ খণ্ড : অগ্নি উৎপাদন

এই পাতা মূল গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত নয়।

রাজসিংহ উপন্যাসটি আটটি খণ্ড ও একটি উপসংহার অংশে বিন্যস্ত। আটটি খণ্ডের নাম যথাক্রমে “চিত্রে চরণ”, “নন্দনে নরক”, “বিবাহে বিকল্প”, “রন্ধ্রে রন্ধ্রে”, “অগ্নির আয়োজন”, “অগ্নি উৎপাদন”, “অগ্নি জ্বলিল” ও “আগুনে কে কে পুড়িল?” এবং উপসংহার অংশটি “গ্রন্থকারের নিবেদন” নামে নামাঙ্কিত।

এই খণ্ডের পরিচ্ছেদ সংখ্যা নয়। এগুলির নাম যথাক্রমে “অরণিকাষ্ঠ—উর্বশী”, “অরণিকাষ্ঠ—পুরুরবা”, “অগ্নিচয়ন”, “সমিধসংগ্রহ—উদিপুরী”, “সমিধসংগ্রহ—স্বয়ং যম”, “পুনশ্চ সমিধসংগ্রহের জন্য”, “সমিধসংগ্রহ—জেব-উন্নিসা”, “সব সমান”, “সমিধসংগ্রহ—দরিয়া”। কীভাবে বিভিন্ন দিক থেকে আগুন জ্বলার প্রস্তুতি চলছল, তারই বর্ণনা দেওয়া হয়েছে এই খণ্ডে।

রাজসিংহ মাণিকলালকে দিয়ে একটি চিঠি পাঠালেন ঔরঙ্গজেবকে। নির্মলকুমারীও চলল দিল্লি, যদি সখীর পরিচর্যার জন্য বাদশাহের পত্নীকে পাওয়া যায় এই আশায়। মাণিকলাল ও নির্মলকুমারী পাথরবিক্রেতার অনেক সরঞ্জাম নিয়ে নানারকম কৌশল করে দিল্লির উদ্দেশ্যে যেতে লাগল। দিল্লিতে নির্মলকুমারী বাদশাহের অন্তঃপুরে যোধপুরী বেগমের কাছে উপস্থিত হল। নির্মলকুমারী উদিপুরীর কাছে গিয়ে তাঁর নেশাচ্ছন্ন মুহূর্তে চঞ্চলকুমারীর চিঠিখানি দিয়ে এল। কিন্তু হারেম থেকে বের হওয়ার সময় ঔরঙ্গজেবের হাতে ধরা পড়ে গেল। ঔরঙ্গজেব নির্মলকুমারীর বুদ্ধিমত্তায় বিস্মিত হলেন। কিন্তু তাকে মুক্তি দিলেন না। যোধপুরী বেগমের মহলে রেখে দিলেন। ছদ্মবেশী মাণিকলালকে নির্মলকুমারী তৈজসপত্রের মধ্যে দিয়ে একটি চিঠি দিল। জেব-উন্নিসা মবারক ও দরিয়ার একত্রে বসবাসের খবরে রেগে বাদশাহের কাছে মবারকের নামে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ আনলেন। ফলে শাহজাদির রোষে মবারককে সর্পদ্রষ্ট হতে হল। কিন্তু মবারকের মৃত্যুসংবাদ এলে জেব-উন্নিসার আনন্দ হল না, তিনি কান্নায় ভেঙে পড়লেন। তিনি বুঝলেন, ভালোবাসার ক্ষেত্রে সবাই সমান। সাপে-কাটা মবারকের দেহ কবর থেকে তুলে এনে বাঁচানো যায় কিনা, সে চেষ্টা করার জন্য তিনি একজন বিশ্বস্ত লোক নিয়োগ করলেন। এদিকে মাণিকলাল মবারককে বাঁচিয়ে নিজের সঙ্গে নিয়ে চলল। উন্মাদিনী দরিয়া জেব-উন্নিসার চোখে জল দেখে অট্টহাস্য করে উঠল।