রাজসিংহ উপন্যাসটি আটটি খণ্ড ও একটি উপসংহার অংশে বিন্যস্ত। আটটি খণ্ডের নাম যথাক্রমে “চিত্রে চরণ”, “নন্দনে নরক”, “বিবাহে বিকল্প”, “রন্ধ্রে রন্ধ্রে”, “অগ্নির আয়োজন”, “অগ্নি উৎপাদন”, “অগ্নি জ্বলিল” ও “আগুনে কে কে পুড়িল?” এবং উপসংহার অংশটি “গ্রন্থকারের নিবেদন” নামে নামাঙ্কিত।
পঞ্চম খণ্ডে মোট ছ’টি পরিচ্ছেদ আছে। এগুলির নাম যথাক্রমে “শাহজাদী অপেক্ষা দুঃখী ভাল”, “রাজসিংহের পরাভব”, “অগ্নি জ্বালিবার আয়োজন”, “অগ্নি জ্বালিবার আরও আয়োজন”, “সে প্রয়োজন কি?” ও “আগুন জ্বালিবার প্রস্তাব”। মোগল-রাজপুতের আসন্ন মহাসংঘর্ষের প্রস্তুতিই এই খণ্ডের আলোচ্য বিষয়।
যুদ্ধক্ষেত্রে মবারক একটি কুয়োর মধ্যে পড়ে গেলে দরিয়াবিবি তাঁকে উদ্ধার করল। কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসার পুনরুজ্জীবনে মবারক দরিয়াকে বিয়ে করে বেশ সুখেই কিছুদিন কাটালেন। শাহজাদির জন্য মবারকের ক্ষোভ রইল না। এদিকে রাজসিংহ মোগলের হাত থেকে চঞ্চলকুমারীকে ছিনিয়ে আনলেও রাজকুমারীর কাছে বাক্চাতুর্যে পরাভূত হলেন। চঞ্চলকুমারী রাণাকে তাঁদের বিবাহের পূর্বে পিতামাতার আশীর্বাদ আনাতে বললেন। কিন্তু চঞ্চলকুমারীর পিতা চিঠিতে জানালেন, রাজসিংহের সঙ্গে তিনি কন্যার বিবাহে রাজি নন। তাঁরা যদি বিয়ে করেন তবে তাঁর অভিশাপ লাগবে। তবে যদি কোনোদিন তিনির রাণাকে উপযুক্ত পাত্র বিবেচনা করেন, তাহলেই নিজেই বিয়ে দেবেন। অগত্যা উপস্থিত চঞ্চলকুমারী ও রাজসিংহের বিয়ে হল না। চঞ্চলকুমারী একা আছেন বলে নির্মলকুমারীকে মাণিকলালকে ছেড়ে রাজকুমারীর প্রাসাদে এসে থাকতে হল। চঞ্চলকুমারীর প্রাসাদে আসার পথে এক বিখ্যাত জ্যোতিষীর কাছে গণনা করে নির্মলকুমারী জানতে পারল, যদি সসাগরা পৃথিবীপতির মহিষী এসে কোনোদিন চঞ্চলকুমারীর সেবা করেন, তবে তাঁর বিয়ে হবে। ওদিকে ঔরঙ্গজেব ও রাজসিংহ উভয়েই যুদ্ধের উদ্যোগ করতে লাগলেন।