রাজসিংহ

তৃতীয় খণ্ড : বিবাহে বিকল্প

এই পাতা মূল গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত নয়।

রাজসিংহ উপন্যাসটি আটটি খণ্ড ও একটি উপসংহার অংশে বিন্যস্ত। আটটি খণ্ডের নাম যথাক্রমে “চিত্রে চরণ”, “নন্দনে নরক”, “বিবাহে বিকল্প”, “রন্ধ্রে রন্ধ্রে”, “অগ্নির আয়োজন”, “অগ্নি উৎপাদন”, “অগ্নি জ্বলিল” ও “আগুনে কে কে পুড়িল?” এবং উপসংহার অংশটি “গ্রন্থকারের নিবেদন” নামে নামাঙ্কিত।

তৃতীয় খণ্ডে মোট দশটি পরিচ্ছেদ আছে। এগুলির নাম যথাক্রমে “বক ও হংসীর কথা”, “অনন্ত মিশ্র”, “মিশ্র ঠাকুরের নারায়ণ স্মরণ”, “মাণিকলাল”, “চঞ্চলকুমারীর পত্র”, “মাতাজীকি জয়”, “নিরাশা”, “মেহেরজান”, “প্রভুভক্তি” ও “রসিকা পানওয়ালী”। চঞ্চলকুমারীকে ঔরঙ্গজেব বিবাহের জন্য সেনা পাঠিয়েছেন। অন্যদিকে চঞ্চলকুমারী বিবাহের বিকল্প ব্যবস্থা করছেন রাজসিংহের সঙ্গে। এই ঘটনাগুলিই এই খণ্ডের উপজীব্য।

যোধপুরী বেগমের দূতী এসে সমস্ত কথা চঞ্চলকুমারীকে বললে রাজকুমারী তাঁর পিতৃকুলের পুরোহিত অনন্ত মিশ্রকে ডেকে একটি চিঠি লিখে রাণা রাজসিংহের কাছে তাঁকে পাঠাবার ব্যবস্থা করলেন। অনন্ত মিশ্র রাজসিংহের কাছে যাওয়ার পথে ডাকাতের হাতে পড়লে সেই চিঠিও ডাকাতদলের হস্তগত হল। সেই ডাকাতদলটিকে আবার রাণা রাজসিংহ একলাই পরাস্ত করলেন। মাণিকলাল নামে দলের একজনই কেবল রক্ষা পেল। সে রাণাকে কথা দিল, রাণার জন্য সে সাধ্যমতো কাজ করবে। অনন্ত মিশ্রের কাছ থেকে পাওয়া চিঠিটি মাণিকলাল রাজসিংহকে দিলেন। রাজসিংহ রাজধানীতে না ফিরে উদয়পুরের দিকে চললেন। এমন সময় তাঁর সৈন্যসামন্ত “মাতাজীকি জয়” ধ্বনি দিয়ে তাঁর সঙ্গে এসে মিলিত হল। ওদিকে রাজসিংহের কাছ থেকে তাঁর চিঠির কোনো উত্তর না পেয়ে চঞ্চলকুমারী নিরাশ হলেন। মোগল সেনা চঞ্চলকুমারীকে নিয়ে যাওয়ার জন্য রূপনগরে এসে তাঁবু ফেলল। সেই তাঁবুর মধ্যে মেহেরজান নামে এক নর্তকীর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ল। এই মেহেরজানই দরিয়াবিবি। মাণিকলাল তার মেয়ের একটা ব্যবস্থা করে রাণার খোঁজে যাত্রা করল এবং নিজের বুদ্ধিবলে গুপ্তস্থানে রাণার সন্ধান পেল। রাজসিংহ মাণিকলালকে ছদ্মবেশে মোগল সেনার মধ্যে থাকতে বললেন আর বলে দিলেন সে যেন রাজকুমারীর সঙ্গেই ফেরেন। প্রভুভক্ত মাণিকলাল রাণার জন্য এই দুঃসাহসিক কাজে প্রবৃত্ত হল। মাণিকলাল রূপনগরে এক রসিকা পানওয়ালির খোঁজ পেল এবং তার সাহায্যে এক মুসলমান সেনাকে বন্দী করে তার পোষাক-পরিচ্ছদ নিয়ে মোগল সেনার মধ্যে আত্মগোপন করল।