রাজসিংহ উপন্যাসটি আটটি খণ্ড ও একটি উপসংহার অংশে বিন্যস্ত। আটটি খণ্ডের নাম যথাক্রমে “চিত্রে চরণ”, “নন্দনে নরক”, “বিবাহে বিকল্প”, “রন্ধ্রে রন্ধ্রে”, “অগ্নির আয়োজন”, “অগ্নি উৎপাদন”, “অগ্নি জ্বলিল” ও “আগুনে কে কে পুড়িল?” এবং উপসংহার অংশটি “গ্রন্থকারের নিবেদন” নামে নামাঙ্কিত।
এই খণ্ডের সাতটি পরিচ্ছেদে মোগল-রাজপুত যুদ্ধ, চঞ্চলকুমারীর উদ্ধার ও মাণিকলাল-নির্মলকুমারীর বিবাহের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। পরিচ্ছেদগুলির নাম যথাক্রমে “চঞ্চলের বিদায়”, “নির্মলকুমারীর অগাধ জলে ঝাঁপ”, “রণপণ্ডিত মবারক”, “জয়শীলা চঞ্চলকুমারী”, “হরণ ও অপহরণে দক্ষ মাণিকলাল”, “ফলভোগী রাণা” ও “স্নেহশালিনী পিসী”।
মোগল সৈন্যের সঙ্গে চঞ্চলকুমারী দিল্লির পথে যাত্রা করলেন। তারপর নির্মলকুমারীও স্থির থাকতে না পেরে দিল্লির পথে পদব্রজে রওনা হল। এদিকে পাহাড়ের সংকীর্ণ রন্ধ্রপথে রাজপুত কর্তৃক আক্রান্ত হয়ে মোগল সেনাদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে মবারক হাল ধরলেন। তাঁর বুদ্ধিবলে যখন অল্পসংখ্যক রাজপুত সৈন্য বিপুল মোগল সেনার দ্বারা অবরুদ্ধ হল, তখন রাজসিংহ যুদ্ধে প্রাণ দেওয়াই স্থির করলেন। কিন্তু চঞ্চলকুমারী দৃঢ়তার সঙ্গে মবারকের সামনে এসে উপস্থিত হলেন। মবারক রাজকুমারীর মহানুভবতায় মুগ্ধ হয়ে পথ ছেড়ে দিলেন। এদিকে পথে মাণিকলালের সঙ্গে নির্মলকুমারীর সাক্ষাৎ হল এবং উভয়ে উভয়ের প্রতি আকৃষ্ট হলেন। মাণিকলালের কৌশলে মোগল সেনা পলায়ন করল। রাজসিংহ চঞ্চলকুমারীকে নিয়ে উদয়পুরে ফিরলেন। তারপর মাণিকলালের অর্থলোলুপ স্নেহশালিনী পিসির সাহায্যে নির্মলকুমারী ও মাণিকলালের যথাশাস্ত্র বিবাহ সম্পন্ন হল।